Posts

পিশাচ... সাজেদুর রহমান

Image
৬.  শুক্লা চতুর্দশীর সাজেদুর রহমান  শুক্লা চতুর্দশীর চাঁদ মাথার ওপর প্রায়। অপার্থিব জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে বিশ্বচরাচর। ঠিক তখন একটি ঘুঘু ডেকে ওঠে। রাত্রিবেলা ঘুঘুর ডাক শোনার কথা না। ঘুঘু অন্ধকার পছন্দ করে না, জ্যোৎস্না পছন্দ করে না। তাদের পছন্দ শান্ত দুপুর। রাত্রিবেলা ঘুঘুর ডাক শাস্ত্রোক্ত দুর্লক্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম। লবামিয়া আমাকে ফিসফিস করে বললেন, এটা হচ্ছে অলক্ষণ। খুবই অলক্ষণ। তারপরেও কী যে হয়েছে—আমি ঘুঘুর ডাক শুনছি। লবামিয়া আমাকে জয়েন উদ্দিন সাহেবের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। জয়েন উদ্দিন সাহেবের বাড়ি বেতগারি। বগুড়া শয়র থেকে বাসে করে মাস্তানে নামলাম। এখান থেকে যাবো শিবগঞ্জের নাগরবন্দরে। মাস্তানে করতোয়া নদীর ঘাটে এসে দেখি ঘাটে কোন নৌকা নাই। অথচ আজ নৃসিংহ চতুর্দশী, একটি উৎসবের দিন। লোকসমাগম থাকার কথা। দোকানপাট বন্ধ। কিন্তু এখন নদী ঘাটে কিছু চোখে পড়ছে না। হতাশ হয়ে ঘাটে বসে আছি আর ভাবছি— ঠিক মত ডাকিনী বিদ্যা জানা থাকলে ভালো হতো। এমন জটিল সময় ডাকিনীরা উড়ি নিয়ে যেতে পারত। ঠিক এই রকম হতাশা-জর্জরিত সময়ে ঘুঘু পাখির ডাক শুনলাম। সেই অতি পরিচিত শান্ত বিলম্বিত টানা-টানা সুর, যা শুনল...

তেজোময়ী তিন ললনা

Image
পুণ্ড্রের পাঁচালী-২৯ (তেজস্বিনী-৫ম পর্ব) সাজেদুর রহমান তেজোময়ী তিন ললনা পুণ্ড্রের পাঁচালি লেখালেখিতে কিছু শাখা-উপশাখা তৈরি হয়েছে। একটি প্রধান শাখা- ‘তেজস্বিনী’ । ‘তেজস্বিনী’ সম্পর্কে একটা ঘটনার কথা বলি। আমি তখন মহাস্থান নিয়ে জানতে শুরু করেছি। মহাস্থানগরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলি ঘুরে ঘুরে দেখছি। এক সন্ধ্যাবেলায় আমি গকুলে খুল্লনার ধাপ বসে আছি। নিজের হাতে খুড়ে স্থাপনার ইটের দেয়ালের খানিকটা উন্মুক্ত করেছি। ইটের সারি মাথা চাড়া দিয়ে অস্তিত্ব প্রকাশ করছে- এই দৃশ্য দেখে মজা পাচ্ছি এবং মনে মনে খুল্লনা নামের ঐতিহাসিক নারীকে নিয়ে ভাবছি।       ভাবনার এই পর্যায়ে আমি একটু কেঁপে উঠলাম। আমার কাছাকাছি এসে টহল পুলিশের জিপ থমকে দাঁড়াল। তারা দলে চার জন। দুজন দুজন করে জিপ থেকে নামল এবং এমন ভঙ্গি করল যেন পৃথিবীর সবচে’ বড় ক্রিমিনালকে পাওয়া গেছে। দলের একজন ধমকের সঙ্গে বলল, কে ওখানে? পরিচয় কি? আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। অত্যন্ত বিনীত ভঙ্গিতে বললাম, আমি সাজু। আপনাদের অবস্থা কি, ভালো?    পুলিশের পুরো দলটাই হকচকিয়ে গেল। উর্দি পরা মানুষদের অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, যে-কোন ...