Posts

মহাস্থান কাহিনী -৭

Image
মহাস্থান কাহিনী -৭  মহাস্থান লিপি বা ব্রাহ্মী লিপিতে জানতে পারি স্থানীয়দের ভাষা ‘মাগধয়ী’ । মাগধীয় ভাষা থেক বাংলা ভাষা। সময় লেগেছে ১ হাজার বছর। এই সময়ের ভাষাতে রচিত হয়েছে বেহুলা লখিন্দর...এক কালজয়ী উপাখ্যান। চাঁদ সওদাগরের পুত্র লখিন্দর ও তার সতীর্থ সাহার কন্যা বেহুলা। মনসার অভিশাপ ছিল চাঁদ সওদাগরের প্রত্যেক পুত্রের জীবন বিনাশ করবেন। একমাত্র লখিন্দর বেতীত সবাই সাপের বিষাক্ত কামড়ে মৃত্যু বরণ করে। এবার লখিন্দরের পালা। বাসর রাতে লখিন্দরকেও সর্প দংশন করে। তার মৃত্যুকে জয় করতে স্বামীকে নিয়ে ভেলাই চড়ে বসে স্ত্রী বেহুলা...। এই উপাখ্যানের বাসর ঘরের স্থান (গকুল মেধ)দেখে মহাস্থানের মিথকে সত্য বলে মনে হয়।

মহাস্থান কাহিনী -৬

Image
মহাস্থান কাহিনী -৬                          ছবিঃ সময় টিভি   মহাস্থনের ভাসুবিহারে যে ধরনের মৃৎপাত্র মিলেছে তার প্রাচীনত্ব মহেঞ্জোদারো এবং হ্রপ্পা সমসাময়িক। ভাসুবিহার বা বসু-বিহার(প-শি-পও-বিহার)এর মত পুরনো সভ্যতার নিদর্শন বাংলাদেশতো বটেই পশ্চিম বঙ্গেও নেই। সম্রাট অশক পুণ্ড্রের মহামাত্রকে নির্দেশ দিচ্ছেন, দুর্ভিক্ষ কালে প্রজাদের ধান্য, গণ্ডক ও কাকনিক মুদ্রা দিয়ে সাহায্য করার। কিন্তু সুদিন ফিরে এলে ধান্য ও মুদ্রা ফেরত দিতে হবে। খ্রিস্টপূর্ব ৩’শ বছর আগের আংশিক পাঠওধধার হওয়া এই অশক লিপি বা মহাস্থান লিপি পুণ্ড্র সভ্যতার অতি গুরুত্তপূর্ণ স্মারক। প্রস্তর খণ্ডে ক্ষোদিত এই লিপিতে ‘পউন্দল গল’ নামের সুশ্রীঙ্খল নগর সভ্যতার ছবি দেখতে পাই।

পুণ্ড্রের পাঁচালী -২ (নামকরণের সাতকাহন)

Image
পুণ্ড্রের পাঁচালী -২ (নামকরণের সাতকাহন) ঋষি  দীর্ঘতমা ও  বলি রাজা ‘তুই দীর্ঘতামাসে প্রবিষ্ট হ...’ অর্থাৎ তুই অন্ধ হয়ে জন্মা। কামে অন্ধ দেবতা বৃহস্পতি জোরপূর্বক সঙ্গমে ব্যার্থ হয়ে এই অভিশাপ যাকে দিলেন তিনি তখনো মাতৃগর্ভে। তাই জন্মের পরে শিশুটি নাম রাখা হয় দীর্ঘতমা ।       জন্মান্ধ দীর্ঘতমা ছিল শৌর্যেবীর্যে অতুলনীয়। গর্ভাবস্থায় থাক মাতা মমতার স্লাতিহিনতা বিষ্যটি দীর্ঘতমার জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। সে বেদশাস্ত্রে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়ে ঋষি উপাধি পেয়ে যায় অল্প বয়সে। অপর দিকে যথেচ্ছাচার যৌন সঙ্গম করে সমালাচিত হতে থাকে। এর কারণ দীর্ঘতমা অন্ধ থাকায় রাতদিনের পার্থক্য বুঝতে না। অথবা জন্মপূর্বক অভিজ্ঞতা তাকে এমন সভাবের করে তুলেছিল। ব্যাপারটা যখন মানবি পর্যায়ে থেকে ষাঁড়ের সাথে ঘটতে থাকল, তখন সমাজপতিরা তাকা হাতপা বেঁধে গঙ্গায় ভাষীয়ে দিলো। ঋষি হওয়ার কারনে প্রাণে মারল না। এদিকে ভারতবর্ষের দক্ষিণপূর্বের দেশ কিসিন্ধিকার দাপুটে রাজা বলি ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি বংস রক্ষার উপাই খুঝছিলেন। এমন সময় গঙ্গায় গোসল করতে গিয়ে ভাসতে থাকা ঋষি দীর্ঘতমাক...

মহাস্থান কাহিনী – ৫

Image
মহাস্থান কাহিনী – ৫  খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৯০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে এই নিদর্শন। মৌরজ আমলে এই স্থানটি “পুণ্ড্রনগর” নামে পরিচিত ছিল। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে মহাস্থানগড় অবস্থিত। মহাস্থানগড় নিয়ে এমনটায় বর্ণনা পাই পঞ্চম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের   পাতায়। সেখানে বলা হচ্ছে- এখানে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলর মধ্যে রয়েছ – চওড়া খাদবিশিশ্ত প্রচীন দুর্গ, প্রাচীন ব্রক্ষ্মী শিলালিপি, মন্দির, পোড়া মাটির ফলক, ভাস্কারজ, ধাতব মুদ্রা, ৩.৩৫ মিটার লম্বা ‘খুদাই পাথর’।

পুণ্ড্রের পাঁচালী -১ ( প্রাচীন আর্যবতের ঈর্ষা )

Image
পুণ্ড্রের পাঁচালী -১ বৈদিক সাহিত্য থেকে  আর্যরা পুন্ড্র বাসিকে দেখে তো বিস্মিত। লকগুলো দেখতে খর্বাকায়। কালো। পাখির মতো কিচিরমিচির করে কথা বলে। অথচ কি সুন্দর তাদের কাপড় বোনার কৌশল। গাছ আঁশ (পাট, কার্পাস, শিমুল, শন, কিটের লালা) দিয়ে অদ্ভুত কায়াদায় মিহি মশ্রিন পোশাক বানাতে পারে। এমন ব্যাপার তাদের মাথায় আসেনি। তারা অবাক হয়ে লক্ষ্য করল, এই মানুষেরা এত চমৎকার কাপড় বুনতে পারে, অথচ কেনজানি তারা নিজেরা কাপড় পড়েনা বললেই চলে। পুরুষেরা সামান্য নেংটি আর নাড়িরা কাছুলি মাত্র। দুঃসাহসী পুন্ড্রের মানুষেরা পাখির মতো গান গাইতে গাইতে বিশাল জলরাশি পেড়িয়ে দেশবিদেশে বাণিজ্য করছে। আর্যরা হতভম্ব হয়ে দেখল, তুলনামূলক অনগ্রসর মানুষেরা চাষবাসে অসম্ভব দক্ষ। ইতিমদ্ধে তারা ধান, দুকুল আর ইক্ষু চাষ করে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। আরও অবাক কাণ্ড ছোটোখাটো মানুসেরা বিসালাকায় হাতিকে ধরে বসমানাতে পারে। পুর ব্যাপারটায় আর্যরা বিস্মিত হলেও তা মুখে শিকার না করে ঈর্ষান্বিত হয়ে পরে। পুণ্ড্রজনদের সর্বপ্রাচীন উল্লেখ ঐতরেয়-ব্ৰাহ্মণে। এই আর্য শাস্ত্রীয় গ্রন্থে পুন্ড্রদের বিষয়ে বলছে, বঙ্গ , মগধ এবং চের দেশের অধ...

মহাস্থান কাহিনী -৪

Image
মহাস্থান কাহিনী -৪ বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন জনপদ মহাস্থানকে নিয়ে স্থানীয়দের প্রচলিত ধারনাটা বারাবারি রকমের। তারা মনেকরে- মস্থানের মাটির উপরে ও নীচে এত সম্পদ আছে, যা দিয়া পৃথিবীর সকল মানুষকে আড়াই দিন খাওইয়ান যাবে। লোক কথাকে আমলে নিলে দুনীয়ার তাবৎ মানুষকে ৮ বেলা খাওয়তে হবে। প্রত্ন স্মপদের প্রকৃত মূল্য বিবেচনায় রেখে মহাস্থানের ধনভাণ্ডার খরচ করে পৃথিবীর সকল মানুষকে আড়াই দিন ক্ষুধা মুক্ত রাখা যাবে...? বাংলাদেশের আইন মতে, ১’শ হছরের পুরনো ১০ টাকা মূল্যের বস্তু পাওয়া গেলে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। কারণ ওই বস্তু প্রত্ন বস্থু। প্রত্ন স্মপদ।

মহাস্থান কাহিনী -৩

Image
মহাস্থান কাহিনী -৩ মহাস্থান কখনও দুর্গ নগরী। কখনও রাজধানী আবার কখনও বাণিজ্জীক নগর।প্রায় তিন হাজার বছর পুরনো এই স্থানটি ধর্মীও ভাবেও গুরুত্ত পেয়েছে । বুদ্ধের বিহার, সনাতন ধর্ম্যাব্লম্বিদের প্রাচিন তীর্থ স্থান আর মুসলমান দের মহাপির শাহ্‌ বলখির মাজার । আর একারণে মহাস্থানে গেলে দেখা যায় সকল মানুষের মিলন স্থান। বাংলাদেশের অধিবাসীদের মহা মিলনে প্রাচীনতম এই স্থানকে মহাস্তান বালাই সংগত। হাজার বছরের চলমান মানব ইতিহাশে দেখা যায় করতোয়া জলে ভেসে অতিশ দীপংকর, শাহ্‌ বলখির মতো অসংখ্য দিব্যজ্ঞানীরা এসেছেন । তাঁদের কারণেও স্থানটি ঐতিহাসিক স্থান।